বর্ষা মৌসুমে আপনি হয়তো টাঙ্গুয়ার হাওর ভ্রমণের পরিকল্পনা করছেন। কারণ বর্ষাকাল টাঙ্গুয়ার হাওর ভ্রমণের উত্তম সময়। এ সময় জলমগ্ন হাওরের পর্যটন স্পটগুলো ছবির মতো সুন্দর হয়ে উঠে। আজকে আপনাদের সাথে হাওর ভ্রমণ সম্পর্কিত কিছু তথ্য শেয়ার করবো।
টাঙ্গুয়ার হাওর ভ্রমণের ১০ টি টিপস ও সতর্কতা

১. টাঙ্গুয়ার হাওর ভ্রমণ আরামদায়ক হওয়ার জন্য প্রথমেই দরকার আপনার বাজেটের মধ্যে ভালো একটা হাউজবোট। ভালো হাউজবোট কিন্তু বেশি টাকার উপর নির্ভর করেনা। সবচেয়ে বেশি দাম এবং সবচেয়ে কম দাম, দুই ধরণের বোট এভয়েড করাই ভালো। মাঝামাঝি দামের বোট বাছাই করতে পারেন।
২. টাঙ্গুয়ার হাওর ট্যুর হয় ১ রাত ২ দিনের। এক রাত থাকার জন্য অতিরিক্ত বাজেটের বোটের কোনো প্রয়োজন নেই। আবার একেবারে লো-কোয়ালিটির হাউজবোটও বাছাই করতে যাবেননা। তাতে আপনার ট্যুরের বারোটা বেজে যাবে।
৩. তাহিরপুরের অনেক লোকাল লোকজন তাদের ট্রেডিশনাল বোটকে ভেঙে কেবিন সিস্টেম করে হাউজবোট নাম দিয়ে দিছে। এসব বোট হাউজবোট নামের কলঙ্ক। এসব বোট মালিক আপনার কাছে দাম চাইবে ৩/৪/৫ হাজার টাকা জনপ্রতি। কিন্তু তাদের সার্ভিস কোয়ালিটি ১৫০০ টাকা মানের। সম্ভব হলে তাহিরপুর/মধ্যনগরের লোকাল বোট এভয়েড করুন।
৪. কিছু চটকদার কথা, যেমন- “আর মাত্র ৩টি কেবিন ফাঁকা আছে” কিংবা “ক্যান্সেলজনিত কারণে ৫ জনের ক্যাপাসিটি ফাঁকা আছে” এসব কথায় কান দিবেন না। প্রকৃতপক্ষে তার একজন গেস্টও হয়নি। আপনিই হয়তো প্রথম বুকিং দিবেন।
৫. কিছু ধান্ধাবাজ লোকজন আছে, যারা আপনাকে সুনামগঞ্জ থেকে রিসিভ করবে বলে বুকিং নেয়। পরে ট্যুরের দিন এটা সেটা কারণ দেখিয়ে তাহিরপুর থেকে বোটে উঠায়। এক্ষেত্রে বুঝে নিবেন, আপনাকে অবশ্যই লোকাল বোট গছিয়ে দিচ্ছে। প্রকৃতপক্ষে যিনি বুকিং নিয়েছেন তিনি বোট মালিকই না, তিনি মিডলম্যান। এক্ষেত্রে ট্যুরিস্ট পুলিশের সহায়তা নিন।

৬. যাদুকাটা নদীতে চোরা স্রোত আছে। কারণ শুকনো মৌসুমে নদী থেকে পাথর উত্তোলনের কারণে নদীতে পানির নিচে অনেক বড় বড় গর্ত হয়ে যায়। সেখানে তীব্র স্রোত থাকে, যা উপর থেকে বোঝা যায়না। আপনি সাঁতার জানলেও লাইফ জ্যাকেট ছাড়া যাদুকাটা নদীতে নামবেন না।
৭. বোট বুকিং করার সময় হিডেন কস্টগুলো জেনে নিবেন। অনেক বোট আপনাকে টেকেরঘাট থেকে অটোরিকশায় যাদুকাটা নদী বারিক্কা টিলা শিমুল বাগান ঘুরিয়ে আনবে। এই কাজটা করে মূলত হাজবোটের তেল খরচ বাচানোর জন্য। বুকিংয়ের সময় নিশ্চিত হয়ে নিন যাদুকাটা নদীতে সরাসরি নৌকা যাবে, নাকি আপনাকে অটোরিকশায় নিয়ে যাবে?
৮. অনেক বোট আছে তাদের পর্যাপ্ত লোক না হওয়ায় শেষ মূহুর্তে আপনার ট্যুর ক্যান্সেল করে দিবে। বুকিংয়ের সময় ভালোভাবে জেনে নিবেন এই বিষয়ে। তাছাড়া বুকিংয়ের পর আপনার ব্যক্তিগত কারণেও ট্যুর ক্যান্সেল করতে হতে পারে। এক্ষেত্রে বুকিংয়ের আগেই ভালোভাবে ক্যান্সেলেশন পলিসি জেনে নিবেন।
৯. জেনারেটর হয়তো ২৪ ঘন্টা চালানো সম্ভব হয়না। কিন্তু কতক্ষণ জেনারেটর সর্ভিস দিবে এটা বুকিংয়ের আগে জেনে নিবেন। রাতে ৮ ঘন্টা ও দিনে ৬ ঘন্টা জেনারেরটর সার্ভিস হচ্ছে স্ট্যান্ডার্ড। বাকি সময় হয়তো আপনি বিভিন্ন স্পটে ঘুরে বেড়াবেন।
১০. টাঙ্গুয়ার হাওর মেইন সৌন্দর্য থাকে ৮০ থেকে ৮৫ দিন। এই ৮৫ দিনের মধ্যে হাওর ভ্রমণের চেষ্টা করুন। সময়কালটা হচ্ছে শ্রাবণ মাসের ১ তারিখ থেকে আশ্বিনের ২৫ তারিখ। অর্থাৎ জুলাই মাসের ১৫ তারিখ থেকে অক্টোবরের ১০ তারিখ পর্যন্ত। এর আগে কিংবা পরে গিয়ে হাওরের আসল সৌন্দর্য উপভোগ করা সম্ভব না।
যেকোনো প্রয়োজনে টুরিস্ট পুলিশের সহায়তা নিন।


